কলকাতায় অবস্থিত খুব ভয়ানোক ভুতুড়ে এক স্থান

আজকের আর্টিকেলটি হতে চলেছে একেবারে রোমহর্ষক। আমার আজকের আর্টিকেলের টপিক কলকাতার সবথেকে ভুতুড়ে জায়গা। কলকাতার ‘বাবু কালচার’ এক দিকে যেমন মান বাড়িয়ে উত্তরণ ঘটিয়েছিল এ শহরের, অন্য দিকে রয়েছে তার বহু অন্ধকার দিকও। ইতিহাস ঘাঁটলে হয়তো সে সব রহস্যের তল পাওয়া মুশকিল। কিন্তু, লোক মুখে ঘোরেফেরে অনেক গোপন কথা।

বিশেষত নারীঘটিত কেচ্ছা-হত্যা-মৃত্যু। কলকাতার ভূতের বাড়ি বলতেই পুতুল বাড়ি এর কথা মনে আসে। এই নামেই পরিচিত উত্তর কলকাতার হরচন্দ্র লেনের ২২ নম্বর বাড়িটি। পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে সার্কুলার রেল লাইন। বহিরাংশের দেওয়ালের শিল্পকর্ম তাক লাগিয়ে দেবে। সঙ্গে খোলা দরজার পাশে ঝোলানো একটি বিজ্ঞপ্তিও। যাতে লেখা, ‘কঠোরভাবে প্রবেশ নিষেধ’।

কলকাতার খুব ভয়ানোক ভুতুড়ে এক স্থান

কারণ, এ বাড়ির বর্তমান বাসিন্দারা একেবারেই চান না যে ‘ভূত’ দেখার নাম করে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ুক আগন্তুকের দল। প্রসঙ্গত, শোভাবাজার জেটির খুব কাছেই রয়েছে এই পুতুল বাড়ি। যা এক সময়ে ব্যবহার করা হতো গুদামঘর হিসেবে। এবং বাড়ির উপরের দিকে বাস করত নট্ট কোম্পানির লোকজন। আহরিটোলার বিশাল রোমান স্থাপত্যের নির্দশন এই পুতুলবাড়ি।

এই বাড়ির উপরের তলায় নাকি ঘুরে বেড়ায় অতৃপ্ত পেত্নিরা। এই বাড়িতে শুধু মাত্র নিচতলাতে মানুষ থাকে। তারা নাকি সন্ধ্যার পর দোতলা বা তিনতলায় ওঠার সাহস পান না। পুতুলরূপী মহিলা অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায় এ বাড়ির আনাচে-কানাচে। তবে এই বাড়ির ভূতের গল্পের সঙ্গে মিশে আছে বঞ্চনার ইতিহাসও। গুজব রয়েছে এই বাড়িতে নাকি আগেকার দিনে বাবুরা মহিলাদের নিয়ে এসে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

এক বিত্তশালী জমিদার এ বাড়িতে মহিলাদের উপর নারকীয় অত্যাচার চালাতেন। অনেক সময় তাঁদের খুনও করা হতো। বাড়ির বারান্দায়, উপরের তলার কুঠুরিতে তাঁদের আত্মারাই এখন ঘোরাফেরা করে। এখানেই কিন্তু শেষ নয়! মেয়েদের উপর নির্যাতনের ইতিহাস আরও আছে। পরবর্তী সময়ে এই বাড়িটিতে এক বড়লোক মনিব বাস করতেন। বাড়ি দেখাশোনায় কয়েকজন দাসীও কাজ করত। মনিব দাসীদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌনসম্পর্ক করতেন।

অত্যাচারের প্রতিবাদ

কিছু দাসী মনিবের এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় তাদের হত্যা করা হয়। হত্যার পর বাড়ির পেছনে তাদের লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে এক সময় রাজাদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয় নারী নির্যাতন। কিন্তু নির্যাতিত ও খুন হওয়া মেয়েদের কষ্টকর পরিণতি জায়গাটাকে একটা অভিশপ্ত বাড়িতে রুপান্তারিত হয়। পরবর্তীকালে যারাই এই বাড়িতে থেকেছেন তারা রাতের বেলা অচেনা নারীর কণ্ঠস্বর, হাসির শব্দ, চিৎকার কিংবা কান্নার আওয়াজ পেয়েছেন। অনেকেই বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাক পড়া নারীর ছায়া দেখতে পেয়েছেন।

ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েব

জমিদারের ইতিহাসের পর কতকাল পার হলো কিন্তু আজ অবধি মাঝে মাঝে রাতে মেয়েলি কণ্ঠের অশরীরীদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের ধারণা মনিবের এ পাপের কারণে এখনো পুতুলবাড়ীতে অশরীরী আত্মার আনাগোনা । ভয়ংকর এই পুতুলবাড়ি নিয়ে রহস্য আজও সবার মুখে মুখে। বাংলা সাহিত্যে পুতুলবাড়িটি নিয়ে সত্যজিৎ রায় ও লিলা মজুমদারের কিছু ভয়ঙ্কর গল্প রয়েছে। এটা কলকাতা শহরের সবচেয়ে রহস্যজনক স্থান।

ভরদুপুরেও কিছু অশরীরীর উপদ্রব

গভীর রাতে তো বটেই এমনকি ভরদুপুরেও কিছু অশরীরীর উপদ্রব রয়েছে এখানে। তবে এইসব কথা পুরোটাই মুখে মুখে প্রচলিত গল্প কথা। ভূত আছে এরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উৎসাহী ভূত প্রেমীদের উৎপাত এড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে বাড়ির প্রবেশমুখে একটা নোটিশ দেওয়া আছে তাতে লেখা আছে ‘কঠোরভাবে প্রবেশ নিষেধ এবং এগুলি গুজব মাত্র।

সমুদ্রের একটি ডলফিনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা উচিত

জানা যায়, পুতুল বাড়ি আদতে ছিল বাংলার এক সময়ের বিখ্যাত ‘নট্ট যাত্রা কোম্পানির। পরিবারের পঞ্চম প্রজন্ম এখনও থাকেন এই বাড়ির কিছু অংশে। বাকিরা সকলেই ভাড়াটে। ফলে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করার ইচ্ছে থাকলেও হয়তো সামর্থে কুলোয় না মালিক পক্ষের। প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ‘সিটি অফ জয়’ ছবিটির শ্যুটিং হয়েছিল এই বাড়িতেই। এই বাড়িটি এখন কলকাতার একটি হেরিটেজ।

সুবিশাল বাড়িটির দৈন্য অবস্থা সত্যিই মন খারাপ করে দেয়। বাড়ির দেওয়াল-ছাদ নানা জায়গা থেকে গজিয়ে উঠেছে আগাছা। দরজা-জানলার অবস্থাও খুবই খারাপ। খোলা দরজার অন্দরে চোখ রাখলে দিনের বেলাতেও দেখা যায় শুধুই অন্ধকার। কেমন যেন ছমছমে পরিবেশ চারপাশ জুড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.