আজ হার (Her) মুভিটি দেখে খুব ভালো লাগলো তাই আপনাদের জন্য রিভিউ নিয়ে আসলাম

স্পাইক জোন্সের লেখা এবং পরিচালিত “Her” সিনেমার প্রোটাগনিস্ট থিউডোর একজন রাইটার যে মানুষের পার্সোনাল লেটার অর্থের বিনিময়ে লিখে থাকে৷ এটা একটা ডিসটেন্ট ফিউচারের গল্প যখন প্রতিটা মানুষের এসিসটেন্ট হিসেবে একজন AI থাকবে। এ আই মানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স।

সে Ai এর কাজ হবে মানুষকে এডভাইস দেয়া, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং থেকে শুরু করে এপোয়েন্টমেন্ট সেট আপ থেকে শুরু করে লাভ লাইফ নিয়ে পরামর্শ দেয়া, হেল্প করা। থিওডোর পার্সোনাল লাইফে একজন বিষাদগ্রস্ত ব্যাক্তি যার কিছুদিন আগেই ডিভোর্স হয়েছে। থিওডোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন Joker মুভির জন্য অস্কার জয়ী হোয়াকিন ফনিক্স।

হার মুভি রিভিউ

তো থিওডোরের (হোয়াকিন) সাথে এক মেয়ের কথা হয়। নাম সামান্থা৷ হোয়াকিন সারাদিন সে মেয়ের সাথে লেখালেখি বিষয়ক পরামর্শ আদানপ্রদান করে৷ এই Samantha আর কেউ না থিওডোরের পার্সোনাল AI। এটি একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যার নিজস্ব চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বুদ্ধিমত্তা আছে৷ এটি একটি মহিলা ভয়েস মুভিতে যে ভয়েসদান করেছেন স্কারলেট জোহানসেন।

এভাবে হেডফোনে থিওডোরের সাথে ক্রমশ সামান্থার আলাপের বিষয় বাড়তে থাকে৷ তারা হিউমেন লাইফ, থিওডোরের ব্রোকেন ম্যারেজ, হিউমেন রিলেশনশীপ, ভালোবাসা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে সারাদিন৷ এক পর্যায়ে থিওডোর আবিস্কার করে সে সামান্থার প্রতি রোমান্টিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ এর মধ্যেই একদিন সামান্থার সাথে থিওডোরের হেডফোনে ইন্টিমেসি বা ফোনসেক্স হয়। ( যেহেতু সামান্থা একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম ফিজিক্যাল কিছু হওয়া সম্ভব না।)

কম্পিউটার প্রোগ্রাম ফিজিক্যাল

দিন দিন থিওডোর সামান্থার ব্যাপারে প্রচন্ড পরিমাণে পসেসিভ হয়ে পড়ে।এর মধ্যেই একদিন সামান্থা থিওডোরের কাছে কনফেস করে Samantha একটি কর্পোরেট AI যে থিওডোরের মত হাজার হাজার লোকের সাথে কথা বলে এবং এর মধ্যে ৯৭৫ জনের প্রেমে সামান্থা পড়েছে যার মধ্যে থিওডোর একজন।

সামান্থা এটাও জানায় পৃথিবীতে যত AI আছে সবাই ইন্টিলিজেন্টলি এতই ইভোলভ করেছে তারা এখন মানুষ কে ছেড়ে চলে যাবে নিজেদের আলাদা জগত গঠনে। একদিন সামান্থা সহ সব AI মানুষ কে ছেড়ে চলে যায়৷ থিওডোরের মোহভঙ্গ হয়। থিওডোর বুঝতে পারে ভালোবাসা মানুষে মেশিনে হওয়া সম্ভব না। ভালোবাসা মানুষ মানুষেই হওয়া সম্ভব৷ থিওডোর চিঠি লিখতে বসে তার এক্স ওয়াইফের কাছে৷

প্রযুক্তি প্রেমে অন্ধ

সাইফাই ঘরানার এ মুভিটি যতটা না সাইফাই তার চাইতে বেশী স্পিরিচুয়াল। এই মুভি কি মেসেজ দেয় এই প্রশ্নে আমার মনে হয় এই মুভি সামগ্রিক ভাবে আমরা প্রত্যেকে প্রযুক্তি প্রেমে অন্ধ হয়ে যে আত্বিকভাবে অনেক একা হয়ে যাচ্ছি এই মেসেজ দেয় আবার আমার মনে হয় Her সিনেমায় আসলে কোনো মেসেজ দেয়া হয়না।

এইটা স্পাইক জোন্সের নির্মাণ করা এমি এডামস, হোয়াকিন ফনিক্স, স্কারলেট জোহানসনের বানানো ফিউচারিস্টিক একটা মেসড আপ দুনিয়া আজ থেকে একশ বা দুইশ বছর পরে সত্য হবে। সামান্থারা থিওডোরদের ছেড়ে গিয়ে এটাও বলে দেয়, আমরা এক একজন এই সোশাল নেটওয়ার্কের যুগে আলাদা আলাদা দ্বীপ হয়ে যাচ্ছি৷ কাছে থেকেও আমাদের দুরত্ব বেড়ে যাচ্ছে৷ আর প্রযুক্তি হলো সে দ্বীপগুলোর বাতিঘর যার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখছে ৷

এই মোবাইল টা হাতে নিলে তোমার আমার মধ্যে দুরত্ব ফেসবুকের হোল নেটওয়ার্কের। মোবাইল টা রেখে দিলে তুমি থাকো উত্তরা আমি থাকি ধানমন্ডি। খুব কি বেশী দূরে? প্রযুক্তি কি আসলেই আমাদের কাছে এনেছে, নাকি দূরে ঠেলে কাছে থাকার ইল্যুশন ক্রিয়েট করেছে? মানুষের শরীরের উত্তাপ কি মেসেজে মেসেজে আদানপ্রদান হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published.