রহস্যজনক কিছু বিমান দুর্ঘটনা যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়

পৃথিবীতে এরকম অনেকে কিছু ঘটে যা খুবই রহস্যজনক, সবসময় সব ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার এরকম অনেক ঘটনায় অতিরঞ্জিত বর্ণনা ও মশলাদার উপাদান মজুত রয়েছে। এরকম ভুয়ো কাহিনী থেকেও সাবধান হতে হয়। তবে এটাও বাস্তব যে সবকিছুর ব্যাখ্যা পৃথিবীতে আজও সম্ভব নয়।

রহস্যজনক কিছু বিমান দুর্ঘটনা

Conspiracy Theories বা ষড়যন্ত্র তত্ব গুলোকেও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যাই হোক এত ভাবলে মাথা গুলিয়ে যাবে। আমাদের আজকের টপিক যেনো কী ছিলো? ও হ্যাঁ মনে পরছে, আজকের টপিক হচ্ছে রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করা।

তাহলে চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে আজকের আর্টিকেলটি শুরু করি। ১৯৮৯ সালে উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজের একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। যাতে লেখা ছিল যে, ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ সালে সান্টিয়াগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৫১৩, পশ্চিম জার্মানির আচেন থেকে যাত্রা করেছিল। বিমানটি ১৮ ঘন্টা পরে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে, বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথে অদৃশ্য হয়ে যায়।

ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েব

নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক বছর ধরে, যাত্রীদের বা বিমানের অবশেষ অনুসন্ধান করার জন্য একাধিক অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছিল তবে কিছুই পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ ধরেই নেয় যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কোনো ধ্বংসাবশেষ না পাওয়া যাওয়ায় অনুসন্ধান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার দুই বছরের মধ্যে অবশ্য ১৯৫৬ সালে সেই এয়ারলাইন্স কোম্পানিটির ব্যবসাও বন্ধ গিয়েছিলো।

টনার ৩৫ বছর পরে, ১৯৮৯ সালের ১২ ই অক্টোবর ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরটি একটি বিমান অনুমোদন ছাড়াই এয়ারবেসের চারদিকে ঘুরতে দেখা গেল। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলট এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিমানটি সুরক্ষিত ভাবে রানওয়েতে অবতরণ করে। তারপর বিমানবন্দর কর্তৃপকক্ষের লোকজন অতি সতর্কতার সাথে বিমানের কাছে পৌঁছল, আর তারা যখন বাইরে থেকে দরজা খুললো তাদের হাড় হিম করা দৃশ্যের সম্মুখীন হতে হয়। তারা দেখতে পায়, ৮৮ টি মানবকঙ্কাল সুরক্ষিতভাবে সীটবেল্টে বাঁধা অবস্থায় সীটে বসে আছে।

বিমানের কর্মীদের কঙ্কাল মজুত

এছাড়াও ৪ জন বিমানের কর্মীদের কঙ্কাল মজুত ছিল। পাইলট তখনও একইভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবার আরো একটি ঘটনার ব্যাপারে আপনাদের শোনাচ্ছি ২ জুলাই, ১৯৫৫ এ নিউ ইয়র্ক থেকে মিয়ামি যাবার উদ্দেশ্যে একটি বিমান রওনা হয়। বিমানটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও ৪ জন কর্মী ছিলেন। সমগ্র যাত্রাপথটি মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যে অতিক্রম করতে হতো কিন্তু বিমানটি মাঝপথেই উধাও হয়ে যায়।

রাডারের মাধ্যমে যোগাযোগ করাও কোনোভাবে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। প্রচুর তদন্তের পর কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল যে বিমানটি দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে সমুদ্রে ডুবে গেছে। বিমানের সমস্ত যাত্রীদের আত্মীয় পরিজনদের সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ৩৭ বছর পর ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিমানবন্দরে এর কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি অজানা বিমান সম্পর্ক স্থাপন করে ও অবতরণ করার অনুমতি চায়।

রহস্যে ভরা জগৎ এর কিছু রহস্যময় ঘটনা

বিমানটির পাইলটের কাছে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা জানায় যে এটি Pan Am ফ্লাইট ৯১৪ যা কিনা মিয়ামি বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা। এটি শুনে কন্ট্রোল টাওয়ারের কর্মীদল হতচকিত হয়ে যায় ও তারা বিমানটিকে অবতরণ করার অনুমতি দেয়। এরপর পাইলট জানতে চায় যে কোথায় আছে তারা। পাইলট যখন জানতে পারে যে সালটি ১৯৫৫ এর পরিবর্তে ১৯৯২ তখনই সে ভয় পেয়ে যায় ও তার কাছে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য বিমান ও জগৎটাই অন্যরকম দেখাচ্ছিল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চেষ্টা করে কিন্তু পাইলট কোনো কথা শুনতে চায়না। পাইলট ভয় পেয়ে বিমানের মুখ ঘুরিয়ে নেয় ও উড়ানের জন্যে প্রস্তুত হয়ে যায়। সে এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে জানালা দিয়ে বলতে থাকে, “কেউ আসবেনা আমার কাছে হে ভগবান! জিমি আমরা কোথায় এলাম?” এরই মধ্যে জানালা দিয়ে হাত নাড়ানোর সময় হাত থেকে তার পকেট ক্যালেন্ডারটি বাইরে পড়ে যায়।

ওয়ার্ল্ড নিউজ ম্যাগাজিন

গ্রাউন্ড স্টাফরা সেটি কুড়িয়ে দেখে যে সেটা ১৯৫৫ এর ক্যালেন্ডার। সেই পাইলট ততক্ষনে বিমান নিয়ে আকাশে উড়ে যায়। এরপর বিমানটি আকাশে যথারীতি উধাও হয়ে যায়। অবশ্য এই দুটি ঘটনাকেই বা কাগজে ছাপা কাহিনী দুটি কে অনেকেই বানোয়াট ও মিথ্যা সাজানো বলে মানেন। অবশ্য এই ঘটনাদুটির বিশ্বাসযোগ্যতা খুবই কম। এবার এখানে লক্ষণীয় বিষয় যে এটি ১৯৮৫ সালে উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ ম্যাগাজিনে একবার প্রকাশিত হয়।

এই পত্রিকাটি এইরকম অবিশ্বাস্য, মনোমুগ্ধকর গল্পগুলিতে বিশেষভাবে লেখালেখি করতো। ১৯৯০ এর দশকে এই কাগজটি আবার একই গল্পটি ছেপে চালিয়েছিল, শুধু বিমানের আগমনের তারিখটি পরবর্তীকালের গল্পগুলিতে ১৯৯২ এ পরিবর্তিত হয়েছিল। যদিও ভেবে দেখার বিষয় এই কাহিনীটি ৯০ এর দশকে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

অনেকেই বিভিন্ন রকম ভাবে এর সত্যতা প্রমান করতে তত্ব পেশ করতে থাকে। যদিও ভেবে দেখার বিষয় একটি প্রবাদ আছে, – “যা রটে তার কিছু অন্তত ঘটে।” এখানে কতটা ঘটেছিলো তা আমি বলতে পারবোনা। ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য ঘেটে আমি যা পেয়েছি তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.